“তোমরা কি জান, গীবত কী?” তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন:“ (গীবত হল) তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে
কে আমার ওপর বড়াই করে বলে, আমি অমুককে ক্ষমা করবো না? আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তোমার আমলকে নষ্ট করে দিয়েছি।
মানুষ বাচ-বিচার না করে এমন কথাবার্তা বলে ফেলে, যার ফলে সে জাহান্নামের ভেতর পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্ব থেকেও বেশি দূরত্বে গিয়ে পতিত হয়।
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুক্তির উপায় কি? তিনি বললেনঃ “তুমি তোমার রসনা সংযত রাখ, তোমার বাসস্থান যেন তোমাকে বেষ্টন করে নেয় (অর্থাৎ তুমি তোমার বাড়ীতে অবস্থান কর) এবং তোমার গুনাহের জন্য ক্ৰন্দন কর”।
“কিয়ামতের দিন মুমিনের জন্য মীযানের পাল্লায় সদ্ব্যবহারের চেয়ে অধিক ভারি আর কিছু হবে না। আল্লাহ তা’আলা অশ্লীল এবং কটুভাষীকে অবশ্যই ঘৃণা করেন।”
“যে ব্যক্তি কসম করতে গিয়ে বলল, ‘লাত ও উয্যার(মূর্তির) কসম’, সে যেন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে। আর যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে বলে, ‘এস তোমার সাথে জুয়া খেলি’, সে যেন সাদকাহ করে”।
বান্দা যখন কাউকে অভিশাপ করে তখন অভিশাপটি আকাশের দিকে অগ্রসর হয়। অতঃপর তার জন্য তার দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অতঃপর যমীনের দিকে নেমে আসে। তখন তার জন্য দুনিয়ার দরজাসমূহও বন্ধ করে দেওয়া হয়। যখন সে কোথাও সুযোগ না পায় তখন যাকে অভিশাপ করা হয়েছে তার নিকট ফিরে আসে। সে যদি অভিশাপের যোগ্য হয়, তার ওপর পতিত হয়। অন্যথায় অভিশাপকারীর ওপরই পতিত হয়।
তোমরা মুনাফিকদের সাইয়েদ বলবে না। কেননা তোমরা যদি তাদের সাইয়্যেদ বলো তবে তোমরা তোমাদের মহান রবকে অসন্তুষ্ট করবে।
“প্রকৃত মুসলিম সে, যার মুখ ও হাত থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাকে। আর প্রকৃত মুহাজির সে, যে আল্লাহ যা থেকে নিষেধ করেছেন তা ত্যাগ করে।”
“চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে হচ্ছে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে; কথা বললে মিথ্যা বলে; অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে; এবং বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীলভাবে গালাগালি দেয়”।
আদম সন্তান যখন সকালে উপনীত হয় তখন তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিহ্বার কাছে মিনতি প্রকাশ করে এবং বলে, আমাদের ব্যাপারে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, আমরা তো তোমার দ্বারাই পরিচালিত হই। তুমি ঠিক থাকলে আমরাও ঠিক থাকি, আর তুমি বক্র হলে আমরাও বক্র হয়ে যাই।
তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে; কেননা (জীবিত থাকলে) সে পুণ্যবান হলে সম্ভবত সে পুণ্য বৃদ্ধি করবে। আর পাপী হলে (পাপ থেকে) তাওবা করতে পারবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ব্যক্তিকে অপর এক ব্যক্তির প্রশংসা করতে শোনেন। আর সে প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করছিল। তখন তিনি বললেন, তুমি তাকে ধ্বংস করলে অথবা তিনি বললেন, লোকটির পিট ভেঙ্গে দিলে।
ইমরান ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সফরে ছিলেন। আনসারী এক মহিলা এক উটনীর উপর সওয়ার ছিল। সে বিরক্ত হয়ে উটনীটিকে অভিসম্পাত করলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে (সঙ্গীদেরকে) বললেন, “এ উটনীর উপরে যা কিছু আছে সব নামিয়ে নাও এবং ওকে ছেড়ে দাও। কেননা, ওটি (এখন) অভিশপ্ত।” ইমরান বলেন, ‘যেন আমি এখনো উঁটনীটিকে দেখছি, উটনীটি লোকদের মধ্যে হাঁটছে, আর কেউ তাকে বাধা দিচ্ছে না।
আবূ বারযাহ নাধলাহ ইবন উবাইদ আসলামী -রাদিয়াল্লাহ আনহু- বলেন, একবার এক যুবতী মহিলা একটি উটনীর উপর সওয়ার ছিল। আর তার উপর লোকেদের (সহযাত্রীদের) কিছু আসবাব-পত্র ছিল। ইত্যবসরে মহিলাটি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখল। এ দিকে লোকেদের কারণে পাহাড়টি সংকীর্ণ হয়ে আসছিল। মহিলাটি উটনীকে (দ্রুত গতিতে চলাবার উদ্দেশ্যে) বলল, ‘হাল! হে আল্লাহ! এর উপর অভিশাপ কর।’ তা শুনে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এমন উটনী আমাদের সাথে থাকবে না, যাকে অভিশাপ করা হয়েছে।”
গালাগালিতে রত দু’জন ব্যক্তি যে সব কুবাক্য উচ্চারণ করে, সে সব তাদের মধ্যে সূচনাকারীর উপরে বর্তায়; যতক্ষণ না অত্যাচারিত ব্যক্তি (প্রতিশোধ গ্রহণে) সীমা অতিক্রম করে।
তুমি জ্বরকে গালি দিয়ো না। কেননা জ্বর আদম সন্তানের গুনাহসমূহ মোচন করে দেয়, যেভাবে কামারের হাঁপর লোহার মরিচা দূর করে দেয়।
“কোন ব্যক্তি যদি তার ভাইকে ‘কাফির’ বলে, তবে সেই কুফরির বিষয়টি তাদের যে কোন একজনের উপর বর্তাবে। যদি সে কাফির হয়, (তাহলে ঠিক আছে) অন্যথায় তা নিজের দিকেই ফিরে আসবে।”
“আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়। সে যমানাকে গালি দেয়; অথচ আমিই যমানা, আমার হাতেই সকল কর্ম, আমিই রাত-দিনের পরিবর্তন ঘটাই।”